অ্যাপোস্টিল কি এবং কোন ডকুমেন্টগুলো অ্যাপোস্টিল করা যায়? – বিস্তারিত জেনে নিন
অ্যাপোস্টিল কি এবং কোন ডকুমেন্টগুলো অ্যাপোস্টিল করা যায়? – বিস্তারিত জেনে নিন
আজকের গ্লোবালাইজড বিশ্বে পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা সরকার যেকোনো ধরণের পাবলিক ডকুমেন্ট গ্রহণ করার আগে সেটির বৈধতা যাচাই করতে চায়। এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো—ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল (Apostille), যা কোনো দেশের সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত ডকুমেন্টকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করে তোলে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, আসলে “অ্যাপোস্টিল” কী? এটি কেন দরকার? এবং কোন কোন ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করতে হয়?
এই ব্লগে আমরা Eicra.com-এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের আলোকে বিস্তারিত জানাবো—অ্যাপোস্টিলের সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া, এবং কোন ধরণের ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিলযোগ্য ও কেন তা জরুরি।
অ্যাপোস্টিল (Apostille) কি?
অ্যাপোস্টিল হলো একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদিকরণ প্রক্রিয়া, যা কোনো নির্দিষ্ট পাবলিক ডকুমেন্টের সত্যতা সরকারিভাবে যাচাই করে এবং সেটিকে বিদেশে ব্যবহারের জন্য বৈধ করে তোলে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, ডকুমেন্টটি সরকার অনুমোদিত এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ইস্যু করা হয়েছে, যার ফলে তা বিদেশি কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
এই প্রক্রিয়াটি ১৯৬১ সালের হেগ কনভেনশন (Hague Convention Abolishing the Requirement of Legalisation for Foreign Public Documents) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। হেগ কনভেনশন সইকারী দেশগুলো এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকে এবং এসব দেশের মধ্যে পাবলিক ডকুমেন্ট ব্যবহারের জন্য কনস্যুলেট বা দূতাবাসে আলাদা লিগ্যালাইজেশন প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র অ্যাপোস্টিল সার্টিফিকেট বা স্ট্যাম্প থাকলেই যথেষ্ট, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ ও দ্রুত করে তোলে। ফলে বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসার জন্য ডকুমেন্ট ব্যবহারে কোনো জটিলতা থাকে না।
হেগ কনভেনশন কী?
হেগ কনভেনশন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যেখানে বর্তমানে ১২৭টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং আরও দেশ এতে যোগ দিচ্ছে। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল—এক দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত পাবলিক ডকুমেন্টকে অন্য দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বৈধভাবে উপস্থাপন করার প্রক্রিয়াকে সহজ, সাশ্রয়ী ও দ্রুততর করা। এর মাধ্যমে বহুবিধ লিগ্যালাইজেশন ধাপ বাদ দিয়ে একটি মাত্র স্টেপে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা যায়। অ্যাপোস্টিল সেই একক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়াটিই বাস্তবায়ন করে, যা হেগ কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে ডকুমেন্ট যাচাই ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছে।
যেসব দেশে অ্যাপোস্টিল প্রযোজ্য: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স,ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, জাপান সহ মোট ১২৭ টি দেশে অ্যাপোস্টিল প্রযোজ্য।
অ্যাপোস্টিল (Apostille) কেন দরকার?
বিদেশে যাবার আগে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট আপনার পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক অবস্থা, কিংবা ব্যবসায়িক অবস্থান প্রমাণ করতে লাগে। যেমন—শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট, চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা অভিজ্ঞতা সনদ, এবং ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে কোম্পানির নিবন্ধনপত্র বা বাণিজ্যিক চুক্তিপত্র প্রয়োজন হয়।
কিন্তু বিদেশি কর্তৃপক্ষ এসব ডকুমেন্ট গ্রহণ করার আগে জানতে চায়, আপনি যে তথ্য দিচ্ছেন বা নথি দাখিল করছেন, সেটি আদৌ সত্য এবং সরকার অনুমোদিত কিনা। এই যাচাই ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আসে অ্যাপোস্টিল—যা সরকারি সীল বা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ডকুমেন্টের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করে।
বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসার জন্য ডকুমেন্টের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি দেশের ইমিগ্রেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তা আপনার নথিপত্র যাচাই করে দেখে যে সেগুলো বৈধ, নির্ভরযোগ্য এবং সরকারিভাবে অনুমোদিত কি না। আর এই স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে অ্যাপোস্টিল একটি অপরিহার্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়া।
ভুল তথ্য, অসত্য ডকুমেন্ট বা ভুয়া সার্ভিস ব্যবহার করলে আপনার ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে বা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। তাই প্রতারণা এড়াতে, এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে আপনার ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করতে, অভিজ্ঞ ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করাই হবে আপনার সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।
উদাহরণ:
- বিদেশে পড়াশোনা: শিক্ষাগত সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট
- চাকরি: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, অভিজ্ঞতা সনদ
- ভিসা আবেদন: জন্ম সনদ, বিবাহ সনদ
- ব্যবসা: ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স
যে দেশগুলো হেগ কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে, তাদের জন্য অ্যাপোস্টিলই যথেষ্ট। কোনো কনস্যুলেট লিগ্যালাইজেশন প্রয়োজন হয় না।
কোন কোন ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করা যায়?
আপনি নিচের তিন ক্যাটাগরির ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করাতে পারবেন নিম্নে এ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা দেওয়া হলো:
১. ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট (Personal Documents)
এই ক্যাটাগরির নথিগুলো আপনার পরিচয়, পারিবারিক অবস্থা, নাগরিকত্ব ইত্যাদি সম্পর্কিত।
প্রযোজ্য ডকুমেন্ট:
- জন্ম সনদ (Birth Certificate)
- বিবাহ সনদ (Marriage Certificate)
- মৃত্যু সনদ (Death Certificate)
- ডিভোর্স সনদ (Divorce Certificate)
- নাম পরিবর্তন সনদ (Name Change Certificate)
- জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্টের কপি
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC)
- অ্যাফিডেভিট ও ঘোষণা পত্র
ব্যবহার: ভিসা আবেদন, পারিবারিক অভিবাসন, নাগরিকত্ব গ্রহণ
২. শিক্ষাগত ডকুমেন্ট (Educational Documents)
এই ডকুমেন্টগুলো সাধারণত বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির জন্য প্রয়োজন হয়।
প্রযোজ্য ডকুমেন্ট:
- এসএসসি / এইচএসসি সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
- ডিপ্লোমা, অনার্স, মাস্টার্স ডিগ্রি সার্টিফিকেট
- বিশ্ববিদ্যালয় ট্রান্সক্রিপ্ট
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেরিফিকেশন লেটার
- প্রশিক্ষণ সনদ ও কোর্স কমপ্লিশন সার্টিফিকেট
- চারিত্রিক সনদ (Character Certificate)
ব্যবহার: শিক্ষাভিসা, স্কলারশিপ আবেদন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি
৩. বাণিজ্যিক ডকুমেন্ট (Commercial Documents)
এই ডকুমেন্টগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবসা, আমদানি-রপ্তানি বা কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রযোজ্য ডকুমেন্ট:
- ট্রেড লাইসেন্স
- ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট (Incorporation Certificate)
- কোম্পানির প্রোফাইল
- চুক্তিপত্র (Agreements)
- ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney)
- ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (TIN, VAT)
ব্যবহার: বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক ডিল
অ্যাপোস্টিল (Apostille) প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে?
ধাপ ১: ডকুমেন্ট যাচাই
প্রথমে যাচাই করতে হবে কোন কোন ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিলের জন্য প্রযোজ্য।
ধাপ ২: নোটারী পাবলিক সত্যায়ন
প্রাথমিক পর্যায়ে নোটারী পাবলিক কর্তৃক নথি সত্যায়িত হয়।
ধাপ ৩: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন
যেমন শিক্ষাগত ডকুমেন্ট হলে শিক্ষা বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করতে হবে।
ধাপ ৪: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীল
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডকুমেন্টে সরকারি সিল দেয়।
ধাপ ৫: অ্যাপোস্টিল স্ট্যাম্প
হেগ কনভেনশন অনুসারে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি Apostille Sticker or Certificate সংযুক্ত করা হয়।
অ্যাপোস্টিল করতে কত সময় লাগে?
সাধারণত একটি ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করতে নিম্নক্ত সময় লাগতে পারে:
- ৭–১০ কার্যদিবস (ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত ডকুমেন্ট)
- ১০–১৫ কার্যদিবস (বাণিজ্যিক ডকুমেন্ট)
তবে দূতাবাস বা সরকারি কার্যক্রমের কারণে সময় ভিন্ন হতে পারে।
অ্যাপোস্টিল (Apostille) করতে খরচ কত পড়ে?
অ্যাপোস্টিল খরচ নির্ভর করে:
- ডকুমেন্টের ধরন (ব্যক্তিগত/শিক্ষাগত/বাণিজ্যিক)
- গন্তব্য দেশ
- প্রক্রিয়ার জরুরিতার উপর
অ্যাপোস্টিল পরিসেবার জন্য কেন আমাদের কে বেছে নেবেন?
Eicra.com বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ডকুমেন্ট সার্ভিসের একটি বিশ্বস্ত নাম। আমরা অত্যান্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে অ্যাপোস্টিল, অ্যাটেস্টেশন, লিগ্যালাইজেশন এবং অনুবাদ সেবা দিয়ে আসছি।
আমাদের সেবার বৈশিষ্ট্য:
- বিশ্বমানের অ্যাপোস্টিল প্রসেসিং
- নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত পরিষেবা
- হোম পিকআপ ও ডেলিভারি সুবিধা
- বিদেশি নিয়ম অনুযায়ী ডকুমেন্ট প্রস্তুতকরণ
- সাশ্রয়ী মূল্য
- অভিজ্ঞ ও পেশাদার টিম
- গ্রাহকসেবায় ২৪/৭ সাপোর্ট
উপসংহার
বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসার জন্য ডকুমেন্টের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি দেশের ইমিগ্রেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তা আপনার নথিপত্র যাচাই করে দেখে যে সেগুলো বৈধ, নির্ভরযোগ্য এবং সরকারিভাবে অনুমোদিত কি না। আর এই স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে অ্যাপোস্টিল একটি অপরিহার্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়া। ভুল তথ্য, অসত্য ডকুমেন্ট বা ভুয়া সার্ভিস ব্যবহার করলে আপনার ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে বা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। তাই প্রতারণা এড়াতে, এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে আপনার ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করতে, অভিজ্ঞ ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করাই হবে আপনার সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নউত্তর ( FAQ)
উত্তর: অ্যাপোস্টিল হলো একটি আন্তর্জাতিক সনদিকরণ স্ট্যাম্প বা সার্টিফিকেট যা সরকারি নথিকে বিদেশে ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।
উত্তর: জন্ম সনদ, বিবাহ সনদ, শিক্ষাগত সার্টিফিকেট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও বাণিজ্যিক নথি অ্যাপোস্টিল করা যায়।
উত্তর: অ্যাপোস্টিল হেগ কনভেনশন সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য, যেখানে অ্যাটেস্টেশন প্রয়োজন পড়ে অ-সদস্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে।
উত্তর: সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবস সময় লাগে, তবে দেশের নিয়ম ও ডকুমেন্টের ধরণ অনুযায়ী এটি পরিবর্তিত হতে পারে।
উত্তর: বাংলাদেশে অ্যাপোস্টিল প্রক্রিয়ার সমন্বয় করে Eicra.com-এর মতো অভিজ্ঞ সার্ভিস প্রোভাইডার, যারা বিদেশি দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করে।
উত্তর: হ্যাঁ, যদি ট্রান্সক্রিপ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইস্যু করা হয় এবং যাচাইযোগ্য হয়।
উত্তর: অবশ্যই। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে সেবা প্রদান করি। অনলাইন এবং কুরিয়ার সার্ভিসে ডকুমেন্ট গ্রহণ করি।
Sorry, the comment form is closed at this time.