how to do notary attestation in bangladesh

নোটারি অ্যাটেস্টেশন (Notary Attestation) কি? বাংলাদেশে কীভাবে করবেন? জানুন বিস্তারিত

নোটারি অ্যাটেস্টেশন (Notary Attestation) কি? বাংলাদেশে কীভাবে করবেন? জানুন বিস্তারিত

বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা অভিবাসনের জন্য অনেক ধরনের সরকারি বা ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে হয়। কিন্তু শুধু ডকুমেন্ট জমা দিলেই চলবে না—তার আগে অবশ্যই সেই নথির সত্যতা যাচাই করতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হতে পারে যে নথিটি বৈধ, নির্ভরযোগ্য এবং জাল নয়। এই সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়ার একেবারে প্রথম ধাপটি হচ্ছে “নোটারি অ্যাটেস্টেশন (Notary Attestation)”, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং প্রায় সব দেশেই অফিসিয়াল ডকুমেন্ট ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য।

অনেকেই এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন—নোটারি অ্যাটেস্টেশন কী, কেন এটি প্রয়োজন, এবং বাংলাদেশে কোথায় ও কীভাবে এটি করতে হয়? আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো নোটারি অ্যাটেস্টেশন সংক্রান্ত সকল প্রশ্নের উত্তর, ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং Eicra.com-এর বিশ্বস্ত সেবার সুবিধাসমূহ।

নোটারি অ্যাটেস্টেশন (Notary Attestation) কী?

নোটারি অ্যাটেস্টেশন হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন নোটারী পাবলিক (Notary Public) কোনো ডকুমেন্টের সত্যতা যাচাই করে সেটিকে আইনি স্বীকৃতি দেন এবং তার স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল সিল দ্বারা নথিটিকে যাচাইকৃত হিসেবে ঘোষণা করেন। এটি সাধারণত কোনো ডকুমেন্টকে আন্তর্জাতিক, অফিসিয়াল বা প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া সরকারি, বেসরকারি, শিক্ষাগত, ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক প্রায় সব ধরনের নথির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে এবং অনেক দেশে এটি আইনগতভাবে আবশ্যক।

নোটারী অ্যাটেস্টেশনের মাধ্যমে কী নিশ্চিত করা হয়?

  • নথিটি আসল বা সত্যায়িত কপি
  • স্বাক্ষরকারী প্রকৃত ব্যক্তি
  • নথির তারিখ, নাম, উদ্দেশ্য যাচাই

এটি একটি আইনি সিল ও স্বাক্ষর যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং অনেক দেশে সরকারি প্রক্রিয়ায় গৃহীত হয়।

কেন নোটারি অ্যাটেস্টেশন প্রয়োজন?

বিদেশে যেকোনো অফিসিয়াল কাজে আপনি যদি বাংলাদেশি কোনো নথি ব্যবহার করতে চান, তাহলে সেই নথির উপর সরকারি কিংবা আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সীল বা স্বীকৃতি থাকতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হতে পারে যে নথিটি আসল এবং বিশ্বাসযোগ্য। এক্ষেত্রে নোটারি অ্যাটেস্টেশন সেই প্রাথমিক স্বীকৃতি প্রদান করে, যা ভবিষ্যতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দূতাবাস বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে চূড়ান্ত অ্যাটেস্টেশন গ্রহণের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই প্রক্রিয়া না করলে অনেক সময় নথি গ্রহণযোগ্যতা পায় না এবং আবেদন বাতিলও হতে পারে।

ব্যবহার ক্ষেত্র:

  • বিদেশে পড়াশোনা (Admission, Scholarship)
  • বিদেশে চাকরি (Work Visa, Employment Contract)
  • ইমিগ্রেশন আবেদন
  • বিয়ে/ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন
  • ব্যবসায়িক চুক্তি
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
  • অ্যাফিডেভিট, ঘোষণা, বা অনুমতিপত্র

অনেক দূতাবাস বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ে নোটারাইজড কপি চায়, যেটা তাদের কাছে প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টটি বাংলাদেশে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে।

কোন কোন ডকুমেন্ট নোটারি অ্যাটেস্ট করতে হয়?

নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু ডকুমেন্টের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো নোটারি অ্যাটেস্টেশনের আওতায় পড়ে:

ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট:

  • জন্ম সনদ (Birth Certificate)
  • বিবাহ সনদ (Marriage Certificate)
  • মৃত্যু সনদ (Death Certificate)
  • নাগরিকত্ব সনদ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • পাসপোর্ট কপি
  • নাম পরিবর্তন সনদ
  • অ্যাফিডেভিট

শিক্ষাগত ডকুমেন্ট:

  • এসএসসি / এইচএসসি / ডিগ্রি সার্টিফিকেট
  • ট্রান্সক্রিপ্ট
  • চারিত্রিক সনদ (Character Certificate)
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র

ব্যবসায়িক ও আইনগত ডকুমেন্ট:

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney)
  • চুক্তিপত্র (Agreement)
  • কোম্পানির ইনকর্পোরেশন সনদ
  • ইনভয়েস, ব্যাংক সনদপত্র ইত্যাদি

বাংলাদেশে কীভাবে করবেন নোটারি অ্যাটেস্টেশন?

বাংলাদেশে নোটারি অ্যাটেস্টেশন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো:

ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন

  • আপনার যেই নথি নোটারাইজ করতে হবে তার মূল কপি এবং ১-২টি ফটোকপি তৈরি রাখুন।

ডকুমেন্ট যাচাই ও সাক্ষর

  • নোটারী পাবলিক আপনার ডকুমেন্টের মূল কপি যাচাই করে, প্রয়োজনে আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সত্যতা নিশ্চিত করে স্বাক্ষর ও সিল প্রদান করেন।

সাক্ষী ও স্বাক্ষর গ্রহণ (যদি প্রয়োজন হয়)

  • কিছু ডকুমেন্টে আপনার সাক্ষর, ছবি, কিংবা উপস্থিত সাক্ষী প্রয়োজন হতে পারে।

নোটারি অ্যাটেস্টেশনের বৈধতা কতদিন?

নোটারি অ্যাটেস্টেশনের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই, তবে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী আপডেটেড বা সাম্প্রতিক নথি থাকা বাঞ্ছনীয় এবং অধিকতর গ্রহণযোগ্য। অনেক প্রতিষ্ঠান ও দূতাবাস ৬ মাসের মধ্যে অ্যাটেস্টেড নথি চায়, বিশেষ করে ভিসা আবেদন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা বিদেশি চাকরির ক্ষেত্রে। এছাড়া কিছু দেশে নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত নথি গ্রহণযোগ্য নয়, তাই সময়মতো পুনরায় অ্যাটেস্টেশন করানো গুরুত্বপূর্ণ।

নোটারি অ্যাটেস্টেশন এবং অ্যাপোস্টিল/দূতাবাস অ্যাটেস্টেশন এর মধ্যে পার্থক্য

বিষয়

নোটারি অ্যাটেস্টেশন

অ্যাপোস্টিল/দূতাবাস অ্যাটেস্টেশন

কর্তৃপক্ষ

নোটারী পাবলিক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা দূতাবাস

উদ্দেশ্য

প্রাথমিক যাচাই

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

ফি

কম

তুলনামূলক বেশি

আবশ্যকতা

কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক ধাপ

অধিকাংশ দেশে বাধ্যতামূলক

কেন আমাদের থেকে নোটারি অ্যাটেস্টেশন করাবেন?

Eicra.com বাংলাদেশে একটি অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, যারা দীর্ঘদিন ধরে নোটারি অ্যাটেস্টেশনসহ আন্তর্জাতিক ডকুমেন্ট প্রসেসিং, অ্যাপোস্টিল, দূতাবাস লিগ্যালাইজেশন, অনুবাদ ও কনসালটেন্সি সেবা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দিয়ে আসছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাহকদের নির্ভরযোগ্য, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত একটি সমাধান প্রদান করা, যা তাদের বিদেশ যাত্রার প্রতিটি ধাপে সহযোগিতা করে।

 আমাদের বিশেষত্ব:

  • দক্ষ নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সেবা
  • অনলাইনে অর্ডার ও হোম পিকআপ সুবিধা
  • দ্রুততম প্রসেসিং (১-২ দিন)
  • বিদেশি নিয়ম অনুযায়ী ডকুমেন্ট প্রস্তুত
  • প্রয়োজন অনুযায়ী অনুবাদ ও অতিরিক্ত লিগ্যালাইজেশন সাপোর্ট
  • কাস্টমার কেয়ার সাপোর্ট ২৪/৭

উপসংহার

নোটারি অ্যাটেস্টেশন আপনার বিদেশযাত্রা, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাথমিক ও আনুষ্ঠানিক ধাপ। ভুলভাবে বা ভুয়া নথির কারণে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে, এমনকি আইনগত জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে। তাই শুরু থেকেই একটি অভিজ্ঞ, নির্ভরযোগ্য ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান যেমন Eicra.com এর সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

আমাদের মাধ্যমে আপনি পাবেন দ্রুত, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত নোটারি অ্যাটেস্টেশন পরিষেবা, যা আপনার ডকুমেন্টকে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন করতে সাহায্য করবে।
আমাদের সাথে থাকুন—আপনার প্রতিটি ডকুমেন্ট হোক আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, নিরাপদ, এবং নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়াজাত।

গ্রাহকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)

উত্তর: নোটারি অ্যাটেস্টেশন হলো একটি আইনি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নোটারী পাবলিক কোনো ডকুমেন্টের সত্যতা যাচাই করে সিল ও স্বাক্ষর দেন। বিদেশে নথি ব্যবহারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর: জন্ম সনদ, বিবাহ সনদ, শিক্ষাগত সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট কপি, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, এবং চুক্তিপত্রসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি নোটারি অ্যাটেস্ট করতে হয়।

উত্তর: অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই দিনে বা ১–২ কর্মদিবসের মধ্যে নোটারি অ্যাটেস্টেশন সম্পন্ন করা যায়।

উত্তর: না, এটি কেবল প্রাথমিক ধাপ। অধিকাংশ দেশের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সেই দেশের দূতাবাস অ্যাটেস্টেশনও প্রয়োজন হয়।

No Comments

Sorry, the comment form is closed at this time.