নোটারি অ্যাটেস্টেশন সার্ভিস: বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি ও ব্যবসার জন্য কেন অপরিহার্য?
নোটারি অ্যাটেস্টেশন সার্ভিস: বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি ও ব্যবসার জন্য কেন অপরিহার্য?
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা, চাকরি, ইমিগ্রেশন, ব্যবসা বা পারিবারিক যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ার জন্য এখন ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন বা অ্যাটেস্টেশন একটা বাধ্যতামূলক অংশ হয়ে গেছে। পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ম্যারেজ সার্টিফিকেট – এসব কাগজ শুধুই থাকলেই হয় না, এগুলোর সত্যতা প্রমাণ করতেও হয়। আর এই জায়গাতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নোটারি অ্যাটেস্টেশন (Notary Attestation)।
এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত দেখব—
- নোটারি অ্যাটেস্টেশন কী
- কোন কোন ক্ষেত্রে এটা জরুরি
- কোন ধরনের ডকুমেন্টে নোটারি করতে হয়
- ধাপে ধাপে নোটারি প্রসেস
- সাধারণ ভুল ও ঝুঁকি
আর কীভাবে Eicra BD আপনাকে প্রফেশনালভাবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে
নোটারি অ্যাটেস্টেশন আসলে কী?
নোটারি অ্যাটেস্টেশন হলো এমন একটি আইনগত প্রক্রিয়া, যেখানে একজন অনুমোদিত নোটারি পাবলিক (Notary Public) কোনো ডকুমেন্টের:
- সত্যতা (Authenticity)
- স্বাক্ষরের বৈধতা (Signature validity)
- কনটেন্ট বা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা (Content reliability)
যাচাই করে তাঁর অফিসিয়াল সিল ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
অর্থাৎ নোটারি পাবলিক মূলত বলে দেন:
“আমি, বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত নোটারি পাবলিক হিসেবে,
এই ডকুমেন্টটি দেখেছি, যাচাই করেছি এবং এটিকে সত্য ও বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।” ফলে, যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা দেশ সরাসরি আপনার ডকুমেন্ট যাচাই করতে পারে না, তারা নোটারি পাবলিকের সিল ও স্বাক্ষরকে আইনি ভিত্তি ধরে ডকুমেন্টটিকে গ্রহণ করে।
কেন নোটারি অ্যাটেস্টেশন এত জরুরি?
বাংলাদেশের ভেতরে কোনো একাডেমিক সার্টিফিকেট, সরকারি সনদ বা ব্যবসায়িক লাইসেন্স হয়তো স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য; কিন্তু বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা দূতাবাসের দৃষ্টিতে এগুলোর সত্যতা সরাসরি যাচাই করা কঠিন।
তাই তারা সাধারণত তিনটি বিষয় দেখে:
- ডকুমেন্ট আসল কি না
- যার নামে ডকুমেন্ট, সে আসলেই সেই ব্যক্তি কি না
- ডকুমেন্টের তথ্যগুলো আইনগতভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না
এই তিনটি প্রমাণের প্রথম ধাপই হলো নোটারি অ্যাটেস্টেশন।
নোটারি অ্যাটেস্টেশন কেন দরকার হয় – কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ
নোটারি অ্যাটেস্টেশন মূলত একটি ডকুমেন্টের কপি যে মূল কাগজের সাথে মিল আছে—তা আইনগতভাবে নিশ্চিত করে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বহু অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় এটি বাধ্যতামূলক হিসেবে ধরা হয়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা (Student Visa, Admission, Scholarship)
বিদেশে পড়াশোনার জন্য আবেদন করার সময় প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ভিসা অফিস নোটারি করা কপি চায়।
সাধারণত প্রয়োজন হয়—
- শিক্ষাগত সনদ ও মার্কশিট
- পাসপোর্টের কপি
- স্কলারশিপ ও ভিসা সংক্রান্ত ডকুমেন্ট
অনেক আবেদন ফর্মেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে:
ওয়ার্ক ভিসা ও জব প্রসেসিং
বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করলে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডকুমেন্টের সত্যতা যাচাই করতে নোটারি কপি চায়।
সাধারণত যেগুলো নোটারি করতে হয়—
- শিক্ষাগত সনদ
- প্রফেশনাল লাইসেন্স বা মেম্বারশিপ
- অভিজ্ঞতার সনদ (Experience Certificate)
এগুলো ছাড়া অনেক সময় ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস এগোয় না।
ইমিগ্রেশন, PR ও ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশের ইমিগ্রেশন প্রসেসে নোটারি অ্যাটেস্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত নোটারি করা কপি প্রয়োজন হয়—
- জন্ম সনদ
- বিবাহ সনদ
- সন্তানের জন্ম সনদ
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
এগুলো জমা না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ব্যবসা, ইনভেস্টমেন্ট ও কর্পোরেট কাজ
আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও কর্পোরেট লেনদেনে নোটারি অ্যাটেস্টেশন ডকুমেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
নোটারি প্রয়োজন হয়—
- বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি
- আন্তর্জাতিক টেন্ডার ডকুমেন্ট
- ব্যাংক গ্যারান্টি
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
অনেক ক্ষেত্রে নোটারি ছাড়া ডকুমেন্ট আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না।
ব্যাংকিং ও ফিন্যান্সিয়াল প্রসেস
বিদেশি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা বা আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামে অংশ নিতে নোটারি কপি চাওয়া হয়।
সাধারণত প্রয়োজন হয়—
- পাসপোর্টের কপি
- ঠিকানার প্রমাণ (Utility Bill, NID ইত্যাদি)
এতে ব্যাংক বা ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান ডকুমেন্টের সত্যতা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে।
কোন কোন ডকুমেন্টে নোটারি অ্যাটেস্টেশন করা যায়?
প্রায় সব ধরনের অফিসিয়াল ডকুমেন্টই নির্দিষ্ট প্রয়োজনে নোটারি অ্যাটেস্টেশন করা যায়। তবে বাস্তবে কিছু ডকুমেন্ট সবচেয়ে বেশি নোটারি করা হয়। নিচে সেগুলো ক্যাটাগরি অনুযায়ী দেওয়া হলো।
১. ব্যক্তিগত (Personal) ডকুমেন্ট
ব্যক্তিগত পরিচয়, নাগরিকত্ব বা পারিবারিক তথ্য প্রমাণের জন্য এই ডকুমেন্টগুলোতে নিয়মিত নোটারি অ্যাটেস্টেশন প্রয়োজন হয়।
সাধারণত নোটারি করা হয়—
- পাসপোর্টের ফটোকপি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি
- জন্ম নিবন্ধন সনদ
- বিবাহ সনদ (Marriage Certificate)
- ডিভোর্স সার্টিফিকেট
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- মেডিকেল সার্টিফিকেট
- ভ্যাকসিন কার্ড (যেমন: Covid-19)
- অ্যাফিডেভিট (ঘোষণাপত্র)
- ব্যক্তিগত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
২. একাডেমিক ও প্রফেশনাল ডকুমেন্ট
শিক্ষা, চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা বিদেশে কাজের জন্য এসব ডকুমেন্টে নোটারি করা অত্যন্ত সাধারণ একটি প্রক্রিয়া।
সবচেয়ে বেশি নোটারি করা হয়—
- স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট
- মার্কশিট ও ট্রান্সক্রিপ্ট
- প্রভিশনাল সার্টিফিকেট
- কোর্স বা ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট
- ট্রেনিং সার্টিফিকেট
- অভিজ্ঞতা সনদ (Experience Certificate)
- প্রফেশনাল লাইসেন্স (যেমন: ডাক্তারের BMDC, ইঞ্জিনিয়ারের IEB ইত্যাদি)
৩. ব্যবসায়িক (Business / Corporate) ডকুমেন্ট
ব্যবসা, ইনভেস্টমেন্ট ও কর্পোরেট লেনদেনে নোটারি অ্যাটেস্টেশন ডকুমেন্টের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
সাধারণত যেগুলো নোটারি করা হয়—
- ট্রেড লাইসেন্স
- TIN / BIN / VAT নিবন্ধন ডকুমেন্ট
- মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MOA)
- আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন (AOA)
- পার্টনারশিপ ডিড
- বোর্ড রেজুলেশন
- কোম্পানি প্রোফাইল ও অথরাইজেশন লেটার
- কর্পোরেট পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
- চুক্তিপত্র, এগ্রিমেন্ট ও কন্ট্রাক্ট (প্রয়োজন অনুযায়ী)
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা জানা দরকার
সব নোটারি পাবলিক সব ধরনের ডকুমেন্ট নোটারি করেন না। অনেক নোটারি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ডকুমেন্টে বেশি অভিজ্ঞ। তাই আপনার কাজের ধরন, ডকুমেন্টের ব্যবহার ও গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী সঠিক নোটারি নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
👉 এখানেই Eicra BD আপনাকে সঠিক গাইডলাইন ও প্রফেশনাল সাপোর্ট দিতে পারে।
নোটারি অ্যাটেস্টেশন করার ধাপ – শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
অনেকেই ভাবেন, নোটারি করা মানে শুধু কাগজে সিল আর সিগনেচার লাগিয়ে দেয়া। আসলে এর পেছনে থাকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে বিষয়টা দেখি।
ধাপ ১: আগেই ক্লিয়ার করুন কোন ডকুমেন্ট লাগবে
প্রথমেই যার জন্য ডকুমেন্ট জমা দেবেন (যেমন – এমবাসি, ইউনিভার্সিটি, কোম্পানি), তাদের রিকয়ারমেন্ট ভালো করে পড়ুন:
- “Notarized copy” লেখা আছে কি না
- “Attested by Notary Public / Lawyer” বলা আছে কি না
- কপি নাকি অরিজিনাল – কোনটা চাচ্ছে
ধাপ ২: মূল কাগজ + ফটোকপি প্রস্তুত করুন
প্রায় সবক্ষেত্রেই নোটারি অ্যাটেস্টেশন হয় ফটোকপিতে, কিন্তু:
- নোটারি পাবলিক অবশ্যই অরিজিনাল ডকুমেন্ট দেখে ফটোকপি যাচাই করবেন
- অরিজিনাল না দেখালে অনেক নোটারি কাজ করতে রাজি হন না
- সব কাগজের হাই-কোয়ালিটি ফটোকপি করুন
- প্রতিটি ডকুমেন্টের অরিজিনাল আলাদা করে রাখুন
- এক সেটে অরিজিনাল, আরেক সেটে ফটোকপি সাজিয়ে রাখলে নোটারির সময় সুবিধা হবে
ধাপ ৩: সঠিক নোটারি পাবলিক বেছে নিন
নোটারি পাবলিক সাধারণত পাওয়া যায়:
- কোর্ট প্রাঙ্গণ
- আইনজীবীদের অফিস
- কিছু ল ফার্মের সাথে সংযুক্ত অবস্থায়
এই ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই Eicra BD-এর মতো পেশাদার সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে কাজ করাতে পছন্দ করেন, কারণ তারা আগে থেকেই নির্ভরযোগ্য, লাইসেন্সপ্রাপ্ত নোটারি পাবলিকের সঙ্গে কাজ করে।
ধাপ ৪: ডকুমেন্ট যাচাই প্রক্রিয়া
নোটারি পাবলিক সাধারণত যা করেন:
- অরিজিনাল ডকুমেন্ট ও ফটোকপি মিলিয়ে দেখেন
- নাম, বানান, পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ইত্যাদি চেক করেন
- কনটেন্টে কোনো সন্দেহজনক কিছু থাকলে প্রশ্ন করেন
- প্রয়োজনে আপনার ছবি, NID বা পাসপোর্ট দেখতে চান
এটা কেবল সিল মারার কাজ না; বরং আইনগত দায়িত্ব নিয়ে যাচাইয়ের অংশ।
ধাপ ৫: সিল, স্বাক্ষর ও নোটারি টেক্সট
যাচাই শেষ হলে নোটারি পাবলিক:
- ফটোকপির ওপর অফিসিয়াল সিল মারেন
- “True Copy”, “Notary Attested”, “Certified” ইত্যাদি লেখা ব্যবহার করতে পারেন
- নিজের নাম, স্বাক্ষর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ঠিকানা, তারিখ উল্লেখ করেন
- প্রয়োজন হলে পেছনের পাতায় অতিরিক্ত নোট বা সার্টিফিকেশন লেখেন
এগুলোর সবই ভবিষ্যতে এমবাসি, ইমিগ্রেশন অফিসার বা বিদেশি ইনস্টিটিউশন যাচাই করে।
ধাপ ৬: সময় ও রিসিপ্ট ম্যানেজমেন্ট
বিশেষ করে কর্পোরেট বা বড় পরিসরে কাজ হলে:
- কতগুলো ডকুমেন্ট
- প্রতি ডকুমেন্ট বা প্রতি পেজে কত টাকা
- মোট কত বিল
– এগুলোর একটা রিসিপ্ট বা ইনভয়েস রাখাই ভালো। Eicra BD কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রকৃত কাজ অনুযায়ী ডকুমেন্টেড বিলিং সিস্টেম ফলো করে, যা ফিন্যান্স টিমের জন্য স্বস্তিকর।
নোটারি, MOFA ও এমবাসি অ্যাটেস্টেশন – পার্থক্য
| বিষয় | নোটারি অ্যাটেস্টেশন | MOFA অ্যাটেস্টেশন | এমবাসি / হাইকমিশন অ্যাটেস্টেশন |
|---|---|---|---|
| করেন | নোটারি পাবলিক | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ) | গন্তব্য দেশের দূতাবাস |
| উদ্দেশ্য | ডকুমেন্ট সত্য ও মূল কপির সাথে মিল—প্রাথমিক যাচাই | বাংলাদেশ সরকারের সরকারি স্বীকৃতি | গন্তব্য দেশের আইনে গ্রহণযোগ্যতা |
| ধাপ | প্রথম ধাপ | দ্বিতীয় ধাপ | শেষ ধাপ |
| ব্যবহার | আন্তর্জাতিক প্রসেসের শুরুতে | বেশিরভাগ এমবাসির জন্য বাধ্যতামূলক | ভিসা, জব, স্টাডি, ইমিগ্রেশন |
| নির্ভরতা | একাই যথেষ্ট নয় | নোটারির পর করা হয় | MOFA-এর পর করা হয় |
ডকুমেন্ট → নোটারি → MOFA → এমবাসি
নোটারি অ্যাটেস্টেশন করতে গিয়ে সাধারণ ভুল ও ঝুঁকি
১. নাম/তারিখ/নম্বরের গড়মিল
- পাসপোর্টে একভাবে নাম
- সার্টিফিকেটে অন্যভাবে
- জন্ম সনদে আবার ভিন্ন বানান
এ ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে:
- নোটারি করতে অনেকে রাজি হন না
- করলেও এমবাসি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানে জটিলতা তৈরি হতে পারে
টিপস: নোটারি করার আগে সব ডকুমেন্টে নাম, বানান, তারিখ মিলিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে আগে সংশোধন করিয়ে নিন।
২. শেষ মুহূর্তে কাজ শুরু করা
ভিসা ইন্টারভিউ বা ডকুমেন্ট সাবমিশনের ঠিক আগের দিন:
- নোটারি
- এমওএফএ
- এমবাসি অ্যাটেস্টেশন
সব একসাথে করতে গিয়ে:
- সময়মতো স্লট না পাওয়া
- নোটারি ব্যস্ত থাকা
- ফাইল দেরিতে পৌঁছানো
এসব কারণে বড় সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কমপক্ষে কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগে থেকে কাজ শুরু করা উচিত।
৩. অপ্রফেশনাল বা আনঅফিশিয়াল সিল
সব সিলই যে গৃহীত নোটারি সিল – তা না। কেউ কেউ ভুয়া বা বাতিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করতে পারে।
ফলে:
- এমবাসি ডকুমেন্ট রিজেক্ট করতে পারে
- ইমিগ্রেশন ফাইলে সন্দেহ থেকে যেতে পারে
এই জন্যই অনেকেই নিজেরা নোটারি না খুঁজে, Eicra BD-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কাজ করান, কারণ তারা রেজিস্টার্ড ও রেগুলারলি কাজ করা পেশাদার নোটারিদের সাথেই ডিল করে।
৪. অরিজিনাল ডকুমেন্ট সঙ্গে না নেওয়া
শুধু ফটোকপি নিয়ে গেলে:
- অধিকাংশ নোটারি কাজ নিতে চান না
- নিলে সেটার আইনি ভ্যালুও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে
সুতরাং সব সময় অরিজিনাল + ফটোকপি একসাথে নিয়ে যান।
Eicra BD কীভাবে নোটারি অ্যাটেস্টেশনকে সহজ করে?
Eicra BD দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্পোরেট, ব্যক্তিগত ও ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্ট প্রসেসিং সার্ভিস প্রদান করে আসছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক থাকার কারণে, নোটারি অ্যাটেস্টেশন অনেক বেশি স্মুথ ও ঝামেলাহীনভাবে করা যায়।
১. ডকুমেন্ট কনসালটেশন ও প্ল্যানিং
- আপনার উদ্দেশ্য (স্টাডি, ওয়ার্ক ভিসা, ইমিগ্রেশন, ব্যবসা) কী – সেটা জেনে
- কোন ডকুমেন্টে নোটারি লাগবে
- কত কপি দরকার
- পরবর্তীতে এমওএফএ/এম্বাসি লাগবে কি না – সব মিলিয়ে একটা ক্লিয়ার প্ল্যান করা হয়।
২. নির্ভরযোগ্য নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কাজ
- রেজিস্টার্ড, এক্সপেরিয়েন্সড নোটারি পাবলিক
- ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা
- কর্পোরেট ক্লায়েন্টের জন্য স্পেশালাইজড সাপোর্ট
ফলে, ভুল সিল/ভুল টেক্সট/আইনি ঝুঁকি কমে যায়।
৩. টাইম ম্যানেজমেন্ট ও ফলোআপ
- ডেডলাইন অনুযায়ী টার্গেট সেট করা
- কবে নোটারি, কবে এমওএফএ, কবে এমবাসি – আগেই প্ল্যান
- ফোন/ইমেইল/চ্যাটে স্ট্যাটাস আপডেট
আপনাকে বারবার কোর্ট বা অফিসে গিয়ে লাইন ধরতে হয় না।
৪. এক্সট্রা সাপোর্ট (শর্তসাপেক্ষে)
- ডকুমেন্ট অনুবাদ (বাংলা ↔ ইংরেজি)
- স্ক্যানিং ও ইমেইল কপি পাঠানো
- কুরিয়ার/ডেলিভারি সমন্বয় (যেখানে সম্ভব)
- কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের জন্য কাস্টম সলিউশন
উপসংহার
আধুনিক আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় আপনার ডকুমেন্টই আপনার পরিচয়, বিশ্বাসযোগ্যতা আর বৈধতার প্রমাণ। এই ডকুমেন্টগুলোকে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য, যাচাইকৃত ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে নোটারি অ্যাটেস্টেশন অপরিহার্য এক ধাপ।
নিজে কোর্টে গিয়ে নোটারি করাতেও পারেন, আবার চাইলে Eicra BD-এর মতো অভিজ্ঞ সার্ভিস প্রোভাইডারের সাহায্য নিয়ে—
- ডকুমেন্ট লিস্ট প্রস্তুত
- সঠিক নোটারির মাধ্যমে কাজ
- প্রয়োজন অনুযায়ী এমওএফএ ও এমবাসি কো-অর্ডিনেশন
– সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটাকে অনেক স্মুথ ও কম ঝামেলাপূর্ণ করে তুলতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন!
বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক কাজে নোটারি অ্যাটেস্টেশন প্রথম ধাপ হিসেবে প্রয়োজন হয়। এটি ছাড়া পরবর্তী অ্যাটেস্টেশন অনেক সময় সম্ভব হয় না।
না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নোটারির পর MOFA এবং প্রয়োজনে এমবাসি অ্যাটেস্টেশন লাগতে পারে।
সাধারণত ধাপটি হয়:
ডকুমেন্ট → নোটারি → MOFA → এমবাসি
ডকুমেন্টের ধরন ও সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রসেসের ওপর সময় নির্ভর করে।
হ্যাঁ। প্রয়োজন অনুযায়ী নোটারি, MOFA এবং এমবাসি অ্যাটেস্টেশন পুরো প্রসেসটি Eicra BD কো-অর্ডিনেট করতে পারে।
Sorry, the comment form is closed at this time.