অ্যাপোস্টিল সেবা নিতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে? বিস্তারিত গাইডলাইন
অ্যাপোস্টিল সেবা নিতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে? বিস্তারিত গাইডলাইন
বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রায়ই আমাদের বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা অভিবাসনের প্রয়োজন পড়ে। এই সকল উদ্দেশ্যে বিদেশে ভ্রমণ বা বসবাস করতে গেলে প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট উপস্থাপন করার। তবে শুধু ডকুমেন্ট থাকলেই চলবে না, তার যথাযথ সত্যতা আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়। এই সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া হলো “অ্যাপোস্টিল” (Apostille)।
তবে অনেকেই জানেন না—এই অ্যাপোস্টিল সেবা গ্রহণ করতে গেলে আসলে কী কী ডকুমেন্ট দরকার হয়, এবং কোন কোন ধাপে এটি করতে হয়। এই ব্লগে আমরা খুব সহজভাবে, বিস্তারিতভাবে এবং উদাহরণসহ আলোচনা করবো অ্যাপোস্টিল সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, প্রক্রিয়া, এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাপোস্টিল (Apostille) কী?
অ্যাপোস্টিল হলো একটি নির্দিষ্ট ধরনের সার্টিফিকেশন, যা বিদেশে ব্যবহারের জন্য কোনো নথিকে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। হেগ কনভেনশন ১৯৬১ (Hague Convention Abolishing the Requirement of Legalisation for Foreign Public Documents) অনুসারে, ১১৩টির বেশি দেশ অ্যাপোস্টিল গ্রহণ করে। বর্তমানে ১২৭টি দেশ অ্যাপোস্টিল সেবা চালু করেছে যা হেগ কনভেনশনের আওতাভুক্ত। এই কনভেনশন অনুযায়ী, যেসব দেশ সদস্য তাদের মধ্যে কনস্যুলেট লিগ্যালাইজেশনের পরিবর্তে অ্যাপোস্টিল সার্টিফিকেট যুক্ত করলেই যথেষ্ট হয়।
অর্থাৎ, অ্যাপোস্টিল এমন একটি স্বীকৃতি যা বিদেশি কর্তৃপক্ষকে জানায় যে ডকুমেন্টটি সরকার কর্তৃক যাচাই করা হয়েছে এবং এটি বিশ্বাসযোগ্য।
অ্যাপোস্টিল কেন প্রয়োজন?
যখন আপনি বিদেশে যাচ্ছেন পড়াশোনা করতে, চাকরি নিতে, ব্যবসা করতে বা অভিবাসনের জন্য, তখন সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা কনস্যুলেট অফিস চাইবে যে, আপনি যে ডকুমেন্ট দিচ্ছেন তা আপনার এবং তা আসল। উদাহরণস্বরূপ:
- একজন শিক্ষার্থী যদি কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য আবেদন করেন, তবে তার সার্টিফিকেটগুলো অ্যাপোস্টিল করা থাকতে হবে।
- কেউ যদি ইউরোপে চাকরির আবেদন করেন, তবে তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট অ্যাপোস্টিল করে নিতে হবে।
- কেউ যদি বিয়ে করে বিদেশ যেতে চান, তখন তার বিবাহ সনদ অ্যাপোস্টিল করাতে হবে।
এই কারণে অ্যাপোস্টিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা অনেক দেশেই আইনগতভাবে আবশ্যক।
যেসব ডকুমেন্ট সমূহে মূলত অ্যাপোস্টিল পরিসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে
অ্যাপোস্টিলের জন্য ডকুমেন্টগুলো তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়:
১. ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট
এখানে অন্তর্ভুক্ত হয় ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড যা প্রমাণ করে আপনার পরিচয়, পারিবারিক অবস্থা এবং সামাজিক অবস্থা।
প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট:
- জন্ম সনদ (Birth Certificate)
- বিবাহ সনদ (Marriage Certificate)
- মৃত্যু সনদ (Death Certificate)
- ডিভোর্স সার্টিফিকেট
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট কপি
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC)
- অ্যাফিডেভিট (Affidavit)
- নাম পরিবর্তন সনদ
- অভিভাবকত্ব সনদ
ব্যবহারের উদ্দেশ্য:
- ভিসা আবেদন
- নাগরিকত্ব গ্রহণ
- বিবাহ বা ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন
- অভিভাবক পরিবর্তন
২. শিক্ষাগত ডকুমেন্ট
বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র অ্যাপোস্টিল করতে হয় যখন আপনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চান অথবা চাকরির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা উপস্থাপন করতে হয়।
প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ডকুমেন্ট:
- এসএসসি/এইচএসসি সার্টিফিকেট ও মার্কশীট
- ডিপ্লোমা বা ডিগ্রির সার্টিফিকেট
- অনার্স/মাস্টার্স ট্রান্সক্রিপ্ট
- চারিত্রিক সনদ (Character Certificate)
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের NOC বা Verification Letter
ব্যবহারের উদ্দেশ্য:
- বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
স্কলারশিপ আবেদন - বিদেশে চাকরির আবেদন
৩. কমার্শিয়াল বা ব্যবসায়িক ডকুমেন্ট
যারা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাদের জন্য বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক নথিপত্র অ্যাপোস্টিল করা জরুরি।
প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ডকুমেন্ট:
- ট্রেড লাইসেন্স
- কোম্পানি ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট
- ট্যাক্স সনদপত্র (TIN, VAT)
- মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (MOA, AOA)
- চুক্তিপত্র বা কন্ট্রাক্ট
- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
- ইনভয়েস এবং প্যাকিং লিস্ট
ব্যবহারের উদ্দেশ্য:
- বিদেশে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন
- আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম
বিদেশি বিনিয়োগ
অ্যাপোস্টিল করার ধাপসমূহ
১. ডকুমেন্ট যাচাই ও সংগ্রহ:
প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে কোন কোন ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করতে হবে এবং তার মূল কপি বা সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করতে হবে।
২. নোটারী পাবলিক সত্যায়ন:
ডকুমেন্ট প্রথমে নোটারী পাবলিক দ্বারা সত্যায়ন করা হয়।
৩. সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন:
যেমন শিক্ষাগত ডকুমেন্ট হলে শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, ব্যক্তিগত হলে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ বা আদালতের স্বীকৃতি দরকার হতে পারে।
৪. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাপোস্টিল স্ট্যাম্প:
সবশেষে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট নথির অ্যাপোস্টিল সার্টিফিকেট প্রদান করে।
৫. প্রয়োজনে বিদেশি দূতাবাসে উপস্থাপন:
হেগ কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয় এমন দেশের জন্য কনস্যুলেট লিগ্যালাইজেশনও প্রয়োজন হতে পারে।
কোন কোন দেশে অ্যাপোস্টিল প্রয়োজন?
আপনি যদি নিচের যেকোনো দেশে যাচ্ছেন, তবে আপনার ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করে নিতে হবে:
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স,নেদারল্যান্ডস, স্পেন, জার্মানি, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এই দেশ গুলো সহ বর্তমানে বিশ্বের ১২৭ টি দেশে যেতে হলে অ্যাপোস্টিল প্রয়োজন।
অ্যাপোস্টিল এর জন্য কেন আমাদের বেছে নেবেন?
Eicra.com দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সার্ভিসের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আমরা অ্যাপোস্টিল, ডকুমেন্ট অ্যাটেস্টেশন ও কনস্যুলেট লিগ্যালাইজেশনের পেশাদার ও বিশ্বমানের সেবা দিয়ে থাকি।
আমাদের সুবিধাসমূহ:
- অভিজ্ঞ ও দক্ষ টিম
- হোম পিকআপ ও ডেলিভারি সার্ভিস
- দ্রুততম প্রসেসিং টাইম (৭–১০ কার্যদিবস)
- বিদেশি রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী ফরম্যাট ও অনুবাদ
- শতভাগ গ্রাহক সন্তুষ্টি
- প্রতিযোগিতামূলক মূল্য
গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস
- প্রতিটি দেশের জন্য ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিলের নিয়ম আলাদা হতে পারে, তাই আগে কনস্যুলেট বা ইমিগ্রেশন অফিসের গাইডলাইন যাচাই করে নিন।
- অ্যাপোস্টিল শুধুমাত্র মূল নথি বা সত্যায়িত অনুলিপিতে করা যায়।
- অনলাইন স্ক্যান কপি দিয়ে অনেক সময় কাজ হয় না।
- সময়মতো কাজ করতে হলে সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখুন।
উপসংহার
অ্যাপোস্টিল প্রক্রিয়া শুনতে যতটা জটিল মনে হয়, অভিজ্ঞ ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান যেমন Eicra.com-এর সাহায্যে তা অত্যন্ত সহজ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। বিদেশে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যদি সফল করতে চান, তাহলে সঠিকভাবে ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আপনার ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত অথবা ব্যবসায়িক যেকোনো ডকুমেন্ট অ্যাপোস্টিল করার জন্য এখনই যোগাযোগ করুন Eicra.com-এর সঙ্গে।
অ্যাপোস্টিল সার্ভিস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
অ্যাপোস্টিল সার্টিফিকেট হলো একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত স্বাক্ষরিত স্ট্যাম্প যা আপনার ডকুমেন্টকে বিদেশে বৈধ করে তোলে। এটি হেগ কনভেনশনের সদস্য দেশগুলোতে প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে সরাসরি অ্যাপোস্টিল সার্ভিস নেই, তবে Eicra.com-এর মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কনস্যুলেটের অ্যাটেস্টেশনসহ বিদেশি দেশ থেকে অ্যাপোস্টিল করানো যায়।
সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবস সময় লাগে, তবে দেশের ধরন ও ডকুমেন্টের উপর নির্ভর করে সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
শিক্ষাগত সনদ, জন্ম/বিবাহ সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, ইনভয়েস, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ইত্যাদি অ্যাপোস্টিলযোগ্য।
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল কপি বা নোটারী পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হয়। স্ক্যান কপি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।
Eicra.com দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অ্যাপোস্টিল সার্ভিস দেয়, হোম ডেলিভারির সুবিধাসহ। সকল ধাপ আমরা আপনার হয়ে সম্পন্ন করি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি সহ ১২৭টি হেগ কনভেনশন স্বাক্ষরকারী দেশে এটি প্রয়োজন।
Sorry, the comment form is closed at this time.